সততা, আদর্শ ও জনসেবায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এক বলিষ্ঠ নেতৃত্বের নাম

সৈয়দ জয়নুল আবেদীন

ঢাকা-৪ আসনের এমপি পদপ্রার্থী

সৈয়দ জয়নুল আবেদীন

দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা-৪ আসনে বসবাসের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি এলাকার প্রকৃত সমস্যাগুলো গভীরভাবে উপলব্ধি করেছেন। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তিনি একটি উন্নত, নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও সমৃদ্ধ ঢাকা-৪ গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন।

Event

জনগণের পাশে সর্বদাই...

ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পরিচয়

সৈয়দ জয়নুল আবেদীন বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ থানার চরামদ্দি ইউনিয়নের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম সাইয়্যেদ বংশে ১৯৭১ সালের ১ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম সৈয়দ হোসেন আলী ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত মেম্বার হিসেবে জনগণের কল্যাণে নানাবিধ সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থেকে ২০১০ সালে ইন্তেকাল করেন। মাতা মরহুমা রাহেলা বেগম ছিলেন একজন আদর্শ গৃহিণী। তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে সৈয়দ জয়নুল আবেদীন পঞ্চম। ছোটবেলা থেকেই পড়ালেখা, আচার-আচরণ, নৈতিকতা এবং পিতার মতো মানুষের কল্যাণে ঝাঁপিয়ে পড়ার দিক থেকে তিনি অনন্য।

সৈয়দ জয়নুল আবেদীন ১৯৮২ সালে স্কুলে অধ্যায়নরত অবস্থায় ঢাকা -৪ আসনের ঢালকানগর এলাকায় যাতায়াত শুরু করেন এবং ১৯৮৯ সাল ছাত্রজীবন থেকেই ঢাকা -৪ আসনের ৫৪, ৫৩, ৫২, ৫৮ ও ৬১ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করেছেন। বর্তমানে ৫৪ নং ওয়ার্ডের খন্দকার রোডে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। তাই ঢাকা - ৪ এর সমস্যা ও সম্ভাবনার সবগুলো বিষয় নিয়ে ইতোমধ্যে তিনি তার পরিকল্পনা ছক এঁকেছেন।

শিক্ষাজীবন

১৯৮৫ সালে পশ্চিম চরাদী ছালেহিয়া সিনিয়র মাদরাসা থেকে বৃত্তিসহ দাখিল পাস করেন। এরপর আলিম, ফাজিল এবং কামিল সম্পন্ন করেন দুর্বাটি আলিয়া মাদরাসা থেকে। পরে বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে প্রথম শ্রেণিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

কর্মজীবন

১৯৯৩ সালে একাডেমিক লেখাপড়া শেষ করে কিছুদিন ব্যবসায়ের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে ইসলামী অর্থনীতির প্রতি অনুরাগী হয়ে ব্যবসা ছেড়ে ব্যাংকিং পেশায় যুক্ত হন। ইসলামী অর্থনীতি এবং ইসলামী ব্যাংকিং এর ওপর তিনি গবেষণাধর্মী বিভিন্ন লেখনি ও কর্মের মাধ্যমে অসামান্য অবদান রেখেছেন। ইসলামের বিভিন্ন বিষয় তাঁর একাধিক পুস্তক পাঠক সমাদৃত হয়েছে。

ভিশন

"জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের প্রতিশ্রুতির আলোকে—সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ঢাকা-৪–কে আধুনিক নাগরিক সুবিধাসম্পন্ন, কর্মসংস্থানমুখী, পরিচ্ছন্ন, সন্ত্রাস-চাঁদাবাজ-মাদকমুক্ত নিরাপদ নগরীতে রূপান্তর করা।"

সবার জন্য শিক্ষা, কর্মসংস্থান, বাসস্থান ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নত, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ ঢাকা-৪

ইশতেহার

ভিশন বাস্তবায়নে অগ্রাধিকারভুক্ত কর্মসূচি

01উন্নত অবকাঠামো ও নাগরিক সেবা

জলাবদ্ধতা নিরসন

  • খাল পুনরুদ্ধার ও পুনঃখনন
  • আধুনিক ড্রেনেজ ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা

রাস্তা-ঘাট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন

  • প্রধান সড়ক সংস্কার ও প্রশস্তকরণ
  • নতুন সড়ক, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ
  • মেট্রোরেল সংযোগ প্রতিষ্ঠার দাবি
  • আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থা ও যানজট নিরসন
  • ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ
  • গণপরিবহন সেবা উন্নতকরণ

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ

  • আধুনিক বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থা
  • শিল্পকারখানার বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ
  • বায়ু ও শব্দদূষণ কমানোর কার্যকর ব্যবস্থা
  • নিরাপদ দূরত্বে বর্জ্য ডাম্পিং স্টেশন

পরিকল্পিত নগরী গঠন

  • পরিবেশবান্ধব আবাসন ব্যবস্থাপনা
  • পর্যাপ্ত স্কুল, খেলার মাঠ, পার্ক, মসজিদ ও কবরস্থান
  • “প্রত্যেক নাগরিকের জন্য একটি গাছ”—সবুজ ঢাকা-৪ গড়া

মৌলিক সেবা সহজীকরণ

  • বিদ্যুৎ, পানি, স্যানিটেশন নিশ্চিতকরণ
  • সুলভ আবাসন সুবিধা

02স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত ও আধুনিক প্রশাসন

দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন

  • সকল ক্ষেত্রে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স
  • স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন

আধুনিক সরকারি সেবা

  • ডিজিটাল পদ্ধতিতে দ্রুত, সাশ্রয়ী ও স্বচ্ছ সেবা
  • ওয়ার্ডভিত্তিক তথ্য ও সেবা কেন্দ্র
  • অনলাইন আবেদন—ট্র্যাকিং—ডেলিভারি ব্যবস্থার উন্নয়ন

03শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা

উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা

  • “সবার জন্য শিক্ষা”—শিক্ষা নিশ্চিতকরণ
  • নৈতিক, মানবিক মূল্যবোধসমৃদ্ধ কর্মমুখী শিক্ষা
  • প্রয়োজনীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়ন

আধুনিক চিকিৎসা সেবা

  • নতুন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন
  • নগর স্বাস্থ্যসেবা জোরদার
  • বিনামূল্যে মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা
  • দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সাশ্রয়ী চিকিৎসা

নাগরিক সুরক্ষা

  • অসহায়, প্রান্তিক, সিনিয়র সিটিজেন, নারী, শিশু, সংখ্যালঘু ও প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ সেবা
  • বিনামূল্যে বা কম খরচে স্বাস্থ্যসেবা

ডে কেয়ার ও নারীর সুরক্ষা

  • কর্মজীবী মায়েদের জন্য নিরাপদ ডে-কেয়ার
  • নারীর জন্য নিরাপদ পরিবহন ও কর্মপরিবেশ

04কর্মসংস্থান, শিল্প-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন

কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দক্ষতা উন্নয়ন

  • তরুণদের কারিগরি প্রশিক্ষণ
  • দক্ষতা বৃদ্ধি কেন্দ্র স্থাপন
  • জনশক্তিকে কর্মোপযোগী করে তোলা

উদ্যোক্তা ও শিল্প সহায়তা

  • যুবকদের উদ্যোক্তা তৈরিতে সহায়তা
  • নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ বিনিয়োগ সুবিধা
  • ট্রেনিং, ঋণ সুবিধা ও বাজারসংযোগ

ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ

  • চাঁদাবাজি ও দখলবাজিমুক্ত ব্যবসার পরিবেশ
  • স্থানীয় শিল্প-বাণিজ্যের প্রসার
  • বিনিয়োগে প্রণোদনা

শ্রমিক অধিকার নিশ্চিতকরণ

  • শ্রম আইন বাস্তবায়ন
  • ন্যায্য মজুরি, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ

  • বাজার মনিটরিং জোরদার
  • খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ

05নিরাপত্তা, আইন-শৃঙ্খলা ও সামাজিক সম্প্রীতি

নিরাপদ ঢাকা-৪ গঠন

  • সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক, চুরি-ছিনতাই, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাং দমন
  • টেন্ডারবাজি ও দখলবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

অধিকার ও সম্প্রীতি রক্ষা

  • মানবাধিকার নিশ্চিতকরণ
  • নারী-শিশুর নিরাপত্তা
  • বাকস্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা
  • সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা
  • ধর্মীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ

মশক নিধন ও জনসচেতনতা

  • আধুনিক মশা নিধন পরিকল্পনা
  • ওয়ার্ডভিত্তিক সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা উদ্যোগ

সামাজিক নেতৃত্ব ও মানবসেবায় সক্রিয়তা

তিনি এলাকার বহু সামাজিক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত, গরীব-দুঃখী- অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, শিক্ষা-চিকিৎসা ও দাওয়াতি কাজে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে আসছেন।

মোশক নিধন কর্মসূচি, শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ, দুস্থ ও দরিদ্রদের মাঝে খাবার বিতরণ, অসহায় নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরন, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, রোগীদের চিকিৎসা সহায়তা, পাড়া-মহল্লায় গণসচেতনতা সৃষ্টি ও দাওয়াতি কার্যক্রমে তিনি অনবদ্য অবদান রেখে যাচ্ছেন। করোনাকালীন সংকটময় মুহুর্তেও তিনি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান। আর্থিক ও চিকিৎসা সহায়তা প্রদানসহ মসজিদ, মাদরাসা, ইয়াতিমখানায় তার অবদান অনন্য।

শিক্ষার মানোন্নয়ন ও প্রতিষ্ঠান গঠন

২০০৫ সাল থেকে তিনি নৈতিক, মানবিক ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কাজে আত্মনিয়োগ করেন। তিনি বিশ্বাস করেন শিক্ষা ছাড়া জাতির উন্নয়ন সম্ভব নয়। সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি গড়ে তুলেছেন বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হল: তা'লীমুল মিল্লাত ইসলামিয়া মাদরাসা, তা'লীমুল উম্মাহ মাদরাসা, কর্ডোভা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, তা'লীমুল উম্মাহ হিফজুল কুরআন মাদ্রাসা, সানবিম গ্রামার স্কুল, খন্দকার গিয়াস উদ্দিন জামেয়া দারুল আরকাম ও এতিমখানাসহ আরও অনেক স্কুল, মাদরাসা, হিফজখানা ও এতিমখানা। তার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলো এলাকার শিশু ও কিশোরদের নৈতিক ও আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলছে।

রাজনৈতিক সংগ্রাম, মামলা ও জেলজীবন

১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদানের পর থেকে শ্যামপুর-কদমতলী এলাকায় বিভিন্ন পর্যায়ে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ এর মজলিসে শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর বায়তুল মোকাররমে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলার সময় তিনি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মাঠে থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বিগত জালেম সরকারের আমলে অনেক মামলা, জেল জুলুমের শিকার হয়েছেন। অকুতোভয় ইসলামের এ সৈনিক আজও আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় এবং অন্যায়ভাবে চাপানো জুলুম-নির্যাতনের বিরুদ্ধে সাহসী প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন।

আন্তর্জাতিক সফর ও প্রশিক্ষণ

ইসলামী অর্থনীতি ও ব্যাংকিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও সেমিনারে অংশ নিতে তিনি চীন, হংকং, মালয়েশিয়া, বাহরাইন ও সৌদি আরব সফর করেন। সফরের বাস্তব অভিজ্ঞতা গণমানুষের কল্যাণে কাজে লাগাচ্ছেন।

যোগাযোগ

আহ্বান: আসুন। বৈষম্যহীন একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়তে সৎ, যোগ্য, মেধাবী, সমাজসেবক ও জনদরদি সৈয়দ জয়নুল আবেদীন ভাইকে শ্যামপুর, কদমতলী ও যাত্রাবাড়ী (আংশিক) এলাকার সার্বিক উন্নয়নে সহযোগীতা ও সমর্থন করি, পাশে দাড়াই।

আপনার এলাকার যেকোনো সমস্যা বা পরামর্শ আমাদের জানাতেন পারেন। আমরা আছি সর্বদা আপনার পাশে।

আহবানে: ঢাকা-৪ (শ্যামপুর কদমতলী ও যাত্রাবাড়ী) এলাকার সর্বস্তরের জনসাধারণ।